সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে।
ভাইফোঁটা দিতেন মুখ্যমন্ত্রী, দলের সবকিছু থাকত নখদর্পণে, তবুও কেন তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়?
মুকুল রায়।
প্রয়াত মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের একটা অধ্য়ায়ের অবসান হল মুকুল রায়ের প্রয়াণে। যখন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হবে কি না, এই সংশয়ে অনেকেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছিলেন, তখন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুকুল রায়। দলের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য ছিল। সাংগঠনিক ক্ষমতা অসাধারণ ছিল তাঁর। প্রতিটা বুথ স্তরের সমস্ত খবর তাঁর নখদর্পণে ছিল। এতটাই দল অন্তপ্রাণ ছিলেন যে তৃণমূলের পার্টি অফিসেই সপরিবারে থাকতেন তিনি। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। তবে এত কিছুর পরও কেন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হল দলের প্রতিষ্ঠার সময়ের সদস্য মুকুল রায়ের?
২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণ অভিযান, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। পরবর্তী সময়ে জাহাজ মন্ত্রী, রেলমন্ত্রী হয়। ২০১১ সালে পালাবদলের পরও অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। এরপরেই ছিল ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ই দেড় বছর ধরে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে দলবদলের কর্মসূচি চলে। প্রায় প্রতিদিনই শরিক দলের নেতা-কর্মীদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাতেন। বাংলার রাজনীতির সমীকরণে বদল আসে মুকুল রায়ের এই ‘দলবদল কর্মসূচি’র দৌলতেই।
রাত পোহালেই কী কী করণীয়, কমিশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, পাঠানো হল ২৫০ জন বিচারকের নাম
তবে সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে মুকুল রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। দলের একাংশ বলতে থাকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই দলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। এই সবকিছুকে কেন্দ্র করেই বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। অভিযোগ ওঠে, যে মুকুল রায় নিজে সর্বেসর্বা হয়ে উঠছেন। বলা হয় যে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও ছিল মুকুল রায়ের।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours