সাধারণভাবে আদর্শ বিধি ঘোষণার পর সরকারের নিয়মিত কাজ চালানো ছাড়া আর কোনও কাজ থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেষ মুহূর্তে ব্যয়বহুল প্রকল্প ও চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়িয়েছে। একের পর এক বড় অঙ্কের চুক্তি এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পে অনুমোদনের হিড়িক বেড়েছে।
আর মাত্র হাতেগোনা ক’টা দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে গণভোট। সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর হতে চলেছে নির্বাচন। তার আগে এই শেষবেলায় দফায় দফায় বেড়েছে চুক্তি স্বাক্ষরের পালা। একের পর এক বড় বড় চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যা নিয়ে বেড়েছে উত্তাপ। আসন্ন সরকারকে ‘অগ্নিপরীক্ষার মুখে ফেলতে চক্রান্ত নয় তো’, প্রশ্ন তুলছেন একাংশ।
সাধারণভাবে আদর্শ বিধি ঘোষণার পর সরকারের নিয়মিত কাজ চালানো ছাড়া আর কোনও কাজ থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেষ মুহূর্তে ব্যয়বহুল প্রকল্প ও চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়িয়েছে। একের পর এক বড় অঙ্কের চুক্তি এবং ব্যয়বহুল প্রকল্পে অনুমোদনের হিড়িক বেড়েছে। যা ঘিরে উঠছে সমালোচনার ঝড়। যে সকল চুক্তি কোনও নির্বাচিত সরকারের করার কথা, সেগুলি করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও চিনের সঙ্গে বিমান ও জাহাজ কেনার চুক্তি করেছে ঢাকা। যার আওতায় বেশ কয়েক যুদ্ধতরী এবং ১৪টি বোয়িং বিমান কিনতে চলেছে বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, এছাড়াও বেশ কয়েকটি নতুন বড় প্রকল্পে অনুমোদন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সমঝোতারও ঘোষণা করেছে যমুনা।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত পয়লা ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্য়ে এক লক্ষ ছয় হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যায়ের ৬৪টি প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা। এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ৪০টি প্রকল্পই সম্পূর্ণ নতুন। দেড় বছর মেয়াদে এই সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লক্ষ তিন হাজার কোটি টাকা।
একদিকে নতুন চুক্তি ঘোষণার চাপ। অন্য়দিকে জুড়ে গিয়েছে প্রস্তাবিত নবম পে কমিশন বাস্তবায়নে খরচ হতে চলা এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের চাপ। সঙ্গে রয়েছে বিপুল বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং বাড়ন্ত মূল্যবৃদ্ধি। অর্থাৎ নির্বাচিত সরকার এলেই রয়েছে বড় অগ্নিপরীক্ষা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পরিস্থিতি মোটেই সুবিধার নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করে যাওয়া ‘দায় বহন’ করেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে নবনির্বাচিত সরকারকে। যা তাঁদের ঠেলে দেবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours