২০২৬ গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি তুঙ্গে: রেকর্ড ভিড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সুরক্ষায় জোর প্রশাসনের, ৫ জানুয়ারি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
২০২৬ সালের পুণ্যলগ্নে গঙ্গাসাগর মেলাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবং পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার আগেই শনিবার মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপ পরিদর্শনে এলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা ও সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় এবং সুন্দরবন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। মন্ত্রী পুলক রায় গঙ্গাসাগর মেলার মাঠ এবং অস্থায়ী পরিকাঠামো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের পর গঙ্গাসাগর মেলা অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মন্ত্রীরা। ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল ‘যাত্রী সুরক্ষা’। বিশেষ করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ড্রোন নজরদারি এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে ২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলা।
মেলা শুরুর আগে আগামী ৫ই জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাগরে আসবেন প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপরেখা খতিয়ে দেখতে। উল্লেখ্য, এবারের মেলায় রেকর্ড ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, এ বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় সারা দেশ থেকে পুণ্যার্থীদের ঢল সাগরমূখে আছড়ে পড়তে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই পরিবহন ও পানীয় জলের সুব্যবস্থা করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন মন্ত্রীরা। গঙ্গাসাগর মেলার মূল আকর্ষণ মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। এ বছর ১৪ই জানুয়ারি, বুধবার মহালগ্নে শুরু হবে স্নানের মহেন্দ্রক্ষণ। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ১৪ই জানুয়ারি বিকেলে সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করার পর বিকেল ৩টে ১৩ মিনিট থেকে ‘মহা পুণ্যকাল’ শুরু হবে। এই তিথি উত্তরায়ণের সূচনা করে। যদিও স্নান ও দানের এই মাহেন্দ্রক্ষণ ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হবে। ফলে ১৪ ও ১৫—এই দুদিনকেই পুণ্যস্নানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে। মন্ত্রীর কথায়, “পুণ্যার্থীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। পানীয় জল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—সবই যুদ্ধের তৎপরতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে।” গঙ্গাসাগরের তটে এখন শুধুই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পুণ্য লাভের আশায় সাগরে ডুব দেওয়ার অপেক্ষায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours