রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলের ৭৫ বছর পূর্তি: বিদ্যা ও মানবতার মেলবন্ধন
গঙ্গাসাগর, ২৫ সেপ্টেম্বর — বিদ্যা, সংস্কৃতি আর সমাজসেবার এক চমৎকার মিশেলে সোমবার মেতে উঠলো গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলের। ৭৫ বছর পূর্তির এই শুভক্ষণে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেজে উঠেছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। একই মঞ্চে পালিত হলো শিক্ষাগুরু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মদিন এবং এক মহতী স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল এলাকার প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি। এই মহতি কর্মসূচিতে যোগ দেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং বিদ্যাসাগরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা তাঁর ভাষণে বলেন, "রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠ কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার জ্ঞান ও মূল্যবোধের এক পীঠস্থান। ৭৫ বছরের এই সুদীর্ঘ পথ চলা নিঃসন্দেহে এক গৌরবময় ইতিহাস।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন স্মরণ এবং একইসাথে পুজোর মরশুমে মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন প্রমাণ করে যে, এই বিদ্যালয় কেবল পুঁথিগত শিক্ষাতেই নয়, মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাদানেও বদ্ধপরিকর।
সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এই আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবার মনোভাব গড়ে তোলার জন্য এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালন কমিটি জানান, স্বাধীনতার আগের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার হাজার হাজার ছেলে-মেয়েকে শিক্ষিত করে সমাজের মূলস্রোতে প্রতিষ্ঠা করেছে। ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সূচনা হলো এই দিন। রক্তদান শিবিরে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় যুবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যা পুজোর মরশুমে রক্তের অভাব মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দিনে রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রাঙ্গণ যেন একাধারে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবসেবার মিলনক্ষেত্রে


Post A Comment:
0 comments so far,add yours