গতকাল রাতে কৃষ্ণপদ মিস্ত্রি স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। অভিযোগ, ভোররাতে কৃষ্ণপদর প্রথম পক্ষের ছেলে বাবুল বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালান। আগুন লাগাতে গিয়ে তিনিও অগ্নিদগ্ধ হন। বাইরে তালা দিয়ে রাখার ফলে পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি।
বাইরে থেকে তালা দেওয়া, দাউদাউ করে জ্বলছে বাড়ি, ভেতরে বাঁচার জন্য চিৎকার দম্পতি ও ২ সন্তানের
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?
নৃশংস। গভীর রাতে বাইরে থেকে বাড়িতে তালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে এক দম্পতি ও তাঁদের ছেলে-মেয়েকে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। মৃতার নাম সন্ধ্যা মিস্ত্রি (৪২)। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের উদয়কৃষ্ণপুরের পশ্চিমপাড়ার। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাবুল মিস্ত্রি নামে অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সম্পর্কে সন্ধ্যার সৎ ছেলে। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জখম হয়েছেন সন্ধ্যার স্বামী কৃষ্ণপদ মিস্ত্রি (৫০), তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে বাদল মিস্ত্রি (১৩) এবং সুমিত্রা মিস্ত্রি (১০)। আগুন লাগাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বাবুলও। তাঁকেও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল রাতে কৃষ্ণপদ মিস্ত্রি স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। অভিযোগ, ভোররাতে কৃষ্ণপদর প্রথম পক্ষের ছেলে বাবুল বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালান। আগুন লাগাতে গিয়ে তিনিও অগ্নিদগ্ধ হন। বাইরে তালা দিয়ে রাখার ফলে পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। বাড়ির ভিতর থেকে চিৎকার করতে থাকেন তাঁরা। তখন প্রতিবেশীরা দৌড়ে আসেন। তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালে কৃষ্ণপদ মিস্ত্রির স্ত্রী সন্ধ্যা মিস্ত্রির মৃত্যু হয়। কৃষ্ণপদ ও ছেলে বাদলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। জমি-জমা সংক্রান্ত পারিবারিক অশান্তির কারণেই প্রথম পক্ষের ছেলে বাবুল মিস্ত্রি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, “নাবালিকা খুব বেশি জখম হয়নি। কৃষ্ণপদ ও বাদলের অবস্থা গুরুতর। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে, সৎ ছেলেই আগুন লাগিয়েছিলেন কি না।”


Post A Comment:
0 comments so far,add yours