মূলত, চাকরি ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতেই পথে নেমেছে তারা। চাকরির বাজারে প্রবেশ ও পদোন্নতি, এই এখন জটিলতার অন্যতম কারণ। এমনকি, পেশাগত মর্যাদা, কে কার থেকে বেশি যোগ্য এই প্রশ্ন তুলেও সরব ছাত্ররা

যে কারণে পড়েছিল হাসিনার সরকার! সেই একই দাবিতে ইউনূসকেও 'ঘিরছে' পড়়ুয়ারা
প্রতীকী ছবি

গত বছর ছাত্র আন্দোলনের সময় বাংলাদেশে পুলিশের ‘গুলিতে’ মৃত্যু হয়েছিল পড়ুয়া আন্দোলনকারী আবু সায়দের। সেই ঘটনা এখনও বিচারাধীন। কোটা সংস্কারের তীব্রতায় বাংলাদেশে একটা সরকার পড়ে যেতে দেখেছে বিশ্ববাসী। তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকার তৈরি হলেও সংস্কার কিন্তু এখন অধরা।

অধরা কোটা সংস্কার





পুলিশের ‘মারে’ আহত ছাত্র আন্দোলনকারীরা, এমনটাই অভিযোগ। সেদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার আন্দোলনকারীরা ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় ঘেরাও করে, তারপর সেখান থেকে দুপুর ২টো নাগাদ তারা অভিযান চালায় ইউনূসের যমুনা ভবনের দিকে। কিন্তু সেই মিছিলের মাঝেই ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। নিমিষে বিক্ষোভ কর্মসূচী পরিণত হল সংঘর্ষে। ছাত্রদের অভিযোগ, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, লাঠিপেটা সবই চালিয়েছে পুলিশ।

কীভাবে জড়াল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা?

মূলত, চাকরি ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের দাবিতেই পথে নেমেছে তারা। চাকরির বাজারে প্রবেশ ও পদোন্নতি, এই এখন জটিলতার অন্যতম কারণ। এমনকি, পেশাগত মর্যাদা, কে কার থেকে বেশি যোগ্য এই প্রশ্ন তুলেও সরব ছাত্ররা।

ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলী পেশায় বাংলাদেশে দু’ধরনের ডিগ্রি রয়েছে। একটি বিএসসি ডিগ্রি বা স্নাতক। অন্যটি, ডিপ্লোমা। একাংশের পড়ুয়া বাংলাদেশে এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। আরেক অংশের পড়ুয়া সরাসরি এসএসসি বা মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একটি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমার জন্য ভর্তি হন। এই ক্ষেত্রে যে এসএসসির পরই ডিপ্লোমা করতে হবে এমন নয়। কেউ চাইলে এইচএসসি-র পরেও প্রবেশ করতে পারেন।

চাকরির বাজারে জটিলতা

জটিলতা শুরু হচ্ছে চাকরির বাজারে। পড়াশোনা শেষ করে পড়ুয়ারা যখন সরকারি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য পরীক্ষায় বসেন, সেখানেই তাদের পড়তে কোটা বা সংরক্ষণের মারের মুখে। এই সংরক্ষণ জাতি বা সম্প্রদায় ভিত্তিক নয়। বরং ডিগ্রি ভিত্তিক।

ডিপ্লোমাধারীরা চাকরির বাজারে সরাসরি দশম গ্রেডের সরকারি চাকরির জন্য আবেদন জানাতে পারেন। এমনকি, চাকরিতে প্রবেশের পর নবম গ্রেডের পদোন্নতির জন্য তারা ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পেয়ে থাকেন। এমনকি, তারা যদি ডিপ্লোমার পর বিএসসি বা স্নাতক করে নেন সেক্ষেত্রে তারা সরাসরি নবম গ্রেডের চাকরির জন্য পরীক্ষায় বসতে পারেন।

কিন্তু এই সুবিধা বিএসসি ডিগ্রীধারীদের নেই বলেই অভিযোগ। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তারা নবম গ্রেডের বা ১১ থেকে ১৬ তম গ্রেডের চাকরির আবেদন জানাতে পারলেও, দশম গ্রেডের জন্য আবেদন জানাতে পারেন না। আর এই প্রক্রিয়াকে বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে আন্দোলনে নেমেছেন স্নাতক পড়ুয়ারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই গ্রেড হল চাকরি বেতন ও পদমর্যাদার কাঠামো। নবম গ্রেডের চাকরি প্রায় গ্যাজেটেড পদের সমতূল্য। দশম গ্রেড তার সহকারী পদ। আর তারপর ১১ থেকে ১৬ গ্রেড নিম্ন পদমর্যাদাকে বোঝায়।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours