মৃত ম্যানগ্রোভের শিকড়ে জীবনের গল্প লিখছেন বকখালির তপন মঙ্গল।
২৫ বছর ধরে তিনি সংগ্রহ করছেন মৃত ম্যানগ্রোভের শিকড়, সমুদ্র তট থেকে কুড়িয়ে আনছেন নুড়ি, শামুক। সেগুলি বিক্রি করে কোনোওরকমে চলছে সংসার।
সমুদ্র যখন নিস্তব্ধ থাকে তখন তার বুকে নেমে পড়েন তিনি, কুড়িয়ে আনেন নুড়ি পাথর, খোঁজ রাখেন ম্যানগ্রোভ গাছ কোথায় প্রাকৃতিকভাবে মারা যাচ্ছে। এরপর সেখান থেকে ম্যানগ্রোভ গাছের শিকড়, মূল সংগ্রহ করেন তিনি।
বছরের পর বছর ধরে মানুষ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কেউ কৃষিকাজ, কেউ দোকান চালান, কেউ আবার পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তপন মঙ্গলের পেশা যেন একেবারেই ভিন্ন সুরে বাঁধা। তিনি সাগরের ধারে মৃত ম্যানগ্রোভ গাছের শিকড় সংগ্রহ করেন। তা দিয়ে তৈরি করেন নান্দনিক শৌখিন সামগ্রী। এছাড়াও তিনি ম্যানগ্রোভ গাছ বসানোর কাজ করেন।
এই কাজ তিনি করছেন টানা পঁচিশ বছর ধরে। কোনও প্রচার নেই, আড়ম্বর নেই নিজের কাজটাই করে যান তিনি।সমুদ্র যখন ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডাকে, তিনি তখন খুঁজে বেড়ান ভেসে আসা মৃত শিকড়ের সৌন্দর্য।
কোনও শিকড় তার গড়নে যেন এক প্রকৃতির ভাস্কর্য, কোনওটা আবার যেন গল্প বলা মুখ। এইসব শিকড় পরিষ্কার করে তিনি বিক্রি করেন নিজের ছোট্ট এক দোকানে।
দোকানটি একেবারে সমুদ্রতটের কাছে। বকখালিতে আসা পর্যটকরা কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকেন সেই সব শিকড়ের দিকে। কেউ কেউ কিনেও নেন।
স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার


Post A Comment:
0 comments so far,add yours