এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, শিবু সিপিএম পরিবারের সন্তান। বাবা নীলকান্ত হাজরা সন্দেশখালি অঞ্চলে সিপিএমের নেতা ছিলেন। বাবা বাম মতাদর্শে‌‌ বিশ্বাসী হলেও পরিবর্তনের হাওয়ায় তৃণমূলে যোগ দেন শিবু। 

নথিতে যাঁর নাম, তাঁরও পাহাড় সমান সম্পত্তি! শাহজাহানের কারণে এবার বিপদে সেই হেভিওয়েটই
এবার বিপাকে হেভিওয়েট

কলকাতা: ১৯ দিন পর শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। চারটে বাড়ি ঘুরেছেন, কিন্তু তালা দেওয়া ছিল। শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। যার মধ্যে রয়েছে এলআইসি, দুটি নামী গহনা প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা সংস্থার টেক্সট ভয়েস, বিল, ভিসা, ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট, এয়ার টিকিটের কাগজপত্র। তাছাড়াও মিলেছেন নির্বাচনী ফর্ম ও বেশ কয়কেটি নথি। যাতে চার জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। ইডি-র হাতে এসেছে শিবপ্রসাদ হাজরা, বিকাশ মণ্ডল ,প্রতিমা সরদার, সবিতা রায়ের নাম। তার মধ্যে এই শিবপ্রসাদ হাজরা ওরফে শিবু হাজরাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও জেলা পরিষদ সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির নেতা নেত্রী, সভাপতি-এহেন একাধিক জনের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যেও বিশেষভাব উল্লেখযোগ্য শিবু হাজরা।


কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ? কে এই শিবু হাজরা?

এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, শিবু সিপিএম পরিবারের সন্তান। বাবা নীলকান্ত হাজরা সন্দেশখালি অঞ্চলে সিপিএমের নেতা ছিলেন। বাবা বাম মতাদর্শে‌‌ বিশ্বাসী হলেও পরিবর্তনের হাওয়ায় তৃণমূলে যোগ দেন শিবু। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান শ্রমিকদের ঠিকাদার হিসাবে কাজ করতেন।



২০২০ সালের ৭ জুন সন্দেশখালির দু’নম্বর ব্লকের বিডিও নিজের কার্যালয়ে আক্রান্ত হন। সে সময়ে আবাস প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করারও অভিযোগ ওঠে। সে সময়ে সন্দেশখালির বিডিও কড়া পদক্ষেপ করেন। এরপরই বিডিওকে গাছে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সে সময়ে শেখ শাহজাহানের নামও উঠে আসে। বিষয়টিতে শেখ শাহজাহানের ওপর সে সময়ে মারাত্মক বিরক্ত হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বছর দুয়েক আগে কলকাতা বন্দরে ২০০ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই ঘটনাতেও শেখ শাহজাহানের পাশাপাশি শিবু হাজরার নাম জড়িয়ে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি নেতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের এই দুই নেতা।

এলাকা সূত্রেই জানা যাচ্ছে, শেখ শাহজাহানের ডান হাত সহচর ছিলেন শিবু হাজরা। শাহজাহানের মনোনয়নের নথিতে চার জনের নাম থাকায় তদন্তকারীরা ভাবছেন, রেশন দুর্নীতির সঙ্গে তাঁরা কীভাবে জড়িত। যে ক’জনের নাম পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে তৃণমূল নেত্রী সাবিত্রী মিত্রও একজন। তাঁর বক্তব্য, “ওঁ আমাদের দলীয় নেতৃত্ব, তাঁর কাছে আমাদের জেতার কাগজ থাকতেই পারে। আমার কিছু বলার নেই। কোন সার্টিফিকেট আমি নিজেও জানি না।”

অন্যদিকে, সন্দেশখালিতে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার বলেন, “শিবু সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লক সামলায়। ওই ব্লকের যত যা রোজগার করে, তা আবার শাহজাহানের কাছে জমা হয়। ও শাহজাহানের ডান হাত। শিবু পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ ও ধরা পড়লে আরও বাকিদের নাম বেরিয়ে যাবে।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours