তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেবারে রণংদেহি মেজাজে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সেলিমকে পাশে নিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়ে গেলেন রাজ্যের শাসক দলকে।


ধূপগুড়ি: রাজনীতির সমীকরণ বড়ই জটিল। একদিকে যখন আরব সাগরের পাড়ে এক টেবিলে বসে ‘ইন্ডিয়া’র ব্লু প্রিন্ট তৈরি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সনিয়া গান্ধীরা। তখন ধূপগুড়ি থেকে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেবারে রণংদেহি মেজাজে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সেলিমকে পাশে নিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়ে গেলেন রাজ্যের শাসক দলকে। নির্বাচনী সন্ত্রাসের ইস্যুতে কার্যত তুলোধনা করলেন তৃণমূলকে। ডাক দিলেন সন্ত্রাসমুক্ত বাংলা গড়ার।


ধূপগুড়ির দিকে আজ নজর ছিল সকলের। কংগ্রেস সমর্থিত বাম প্রার্থী ঈশ্বরচন্দ্র রায়ের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন মহম্মদ সেলিম ও অধীররঞ্জন চৌধুরী। এমন অবস্থায় একদিকে যখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক চলছে মুম্বইয়ে, তখন ধূপগুড়ির সভা থেকে বাম-কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের নেতৃত্বের থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল ওয়াকিবহাল মহল। আর মঞ্চ থেকে এদিক তৃণমূল আর বিজেপিকে কার্যত একই সরলরেখায় ফেলে মাপলেন অধীর। বললেন, “একদিকে তৃণমূলের সন্ত্রাস, আর একদিকে বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা। এই সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার মাঝে নিশ্বাস ফেলার জায়গা তৈরি করা দরকার। এই বাংলা আগামী দিনে সন্ত্রাসমুক্ত করে, বাংলার মানুষকে স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নেওয়ার অধিকার আমরা ফিরিয়ে দেব। তাই আমরা সংগ্রামে অবতীর্ণ।”

সম্প্রতি রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় প্রতিটি পদে পদে যে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল, সেই কথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তুলে ধরলেন ‘সন্ত্রাসের’ রকমফেরও। বিরোধীদের উপর অত্যাচারের বিবরণ দিতে গিয়ে বললেন, “প্রার্থী হওয়ার হিম্মত দেখালে এক ধরনের সন্ত্রাস, মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গেলে সেখানে সন্ত্রাস, মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর প্রত্যাহার করার জন্য একটা সন্ত্রাস, ভোটের প্রচারে সন্ত্রাস, ভোটের দিনে সন্ত্রাস, বোর্ড গঠনের আগে সন্ত্রাস, বোর্ড গঠনের সময় সন্ত্রাস, বোর্ড গঠনের পরের সন্ত্রাস, এমনকী বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সন্ত্রাস।” আসন্ন ধূপগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনে আমজনতা যাতে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ওই সন্ত্রাসের বদলা নেন, সেই বার্তাও দিলেন অধীর।


একইসঙ্গে একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে বেনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে, সেই ইস্যুতেও সুর চড়ালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তবে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক নিয়ে এদিন বেশ সাবধানী দেখাল অধীরকে। বললেন, “খবরের কাগজ দেখার দরকার নেই। কোথায় কী হচ্ছে দেখার দরকার নেই। পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুড়িতে বিজেপি, তৃণমূল উৎখাত করতে বাম ও কংগ্রেস জোট প্রার্থীকে ভোট দিন।”

এদিকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বলছেন, “বামফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেস সমর্থন দিয়েছে। আর বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবাই এককাট্টা এ রাজ্যে।”

ধূপগুড়িতে বাম-কংগ্রেসের যৌথ মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে নিশানা করায় পাল্টা দিয়েছেন শাসক দলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। বলছেন, “এখানে বিজেপির দুই ভাই। সিপিআইএম আর রাজ্য কংগ্রেস। কারণ, একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিরোধিতার স্বার্থে সব শক্তিকে একজোট করার চেষ্টা করছেন, তখন এখানে মহম্মদ সেলিমরা বিজেপির দালালি করে বিজেপির হাত শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours