ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি ঝুপড়ি। বেসরকারি হিসেবে শতাধিক। মঙ্গলবার বিকেলে আগুন লাগে তপসিয়ার দাতা বাবা মাজার সংলগ্ন রঙের কারখানায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে খালপাড়ের বস্তিতে। ছোট ছোট ঝুপড়িতে দু'শোর বেশি শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। কেউ হতাহত না-হলেও সর্বস্ব খুইয়ে আশ্রয়হীন হয়েছেন অধিকাংশই। সন্ধ্যায় সেখানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় বিধায়ক জাভেদ খান এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনও অসহায় অবস্থাতেই প্রতিটা মুহূর্ত কাটাচ্ছেন মানুষগুলো। এদিনও তাঁদের অবস্থা শোচনীয়। তবে, তিলজলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য স্থানীয় কাউন্সিলর ফৈয়াজ আহমেদ খানের। ত্রিপল, খাবারদাবার তুলে দেওয়া হয় তাঁদের হাতে। কিন্তু তাঁদের অসহয়তার ছবি ধরা পড়েছে প্রতি মুহূর্তে।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার অবস্থা হয়েছে ঝুপড়িবাসী পরিবারগুলির। প্রশাসনের তরফে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামনের ররিবারই বিয়ে ছিল কাশ্মীরার। আগুনে পুড়ে গিয়েছে তাঁর বিয়ের গয়না থেকে সব কিছুই। বছর একুশের তরুণীর বাবার কথায়, 'একটু একটু করে মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জোগাড় করেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল!' আগুনের গ্রাসে বইখাতা পুড়েছে বেশ কয়েকজন স্কুল-পড়ুয়ার।
ইএম বাইপাসের ধারে নির্মীয়মাণ বহুতলের পিছন দিকে জিজে খান রোডে খালের ধারে বস্তি। মহম্মদ ইকবাল জানিয়েছেন, 'দুপুরে কাজ থেকে ফিরে ঘরে খাচ্ছিলাম। পোড়া গন্ধ পাই। সঙ্গে লোকজনের চিৎকার। বেরিয়ে দেখি দাউদাউ আগুন জ্বলছে। দুই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে কোনও রকমে বেরিয়ে আসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখের সামনে আমার ঘরটাও পুড়ে ছাই হয়ে গেল!'
আগুন লাগার খবর পেয়ে আসে দমকলের ১২টির বেশি ইঞ্জিন। তবে তার আগেই ছাই হয়ে গিয়েছিল অনেক ঝুপড়ি। পৌঁছন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী জাভেদ খান এবং দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। স্থানীয়দের দাবি, রঙের কারখানাতেই প্রথম আগুন লাগে। সম্ভবত বিস্ফোরণও হয়। তার পর দ্রুত আগুন ছড়ায় বস্তিতে। বাঁশ, প্লাস্টিকের মতো দাহ্য পদার্থে পর পর ঝুপড়ি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। আতঙ্কে খালের অন্য প্রান্তে গিয়ে ঝুপড়ির বাসিন্দারাই খাল থেকে জল দিয়ে আগুনে নেভানোর চেষ্টা করেন। ঘিঞ্জি ওই এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এই প্রথম শহরে রোবট কাজে লাগায় দমকল। দমকল আসার পর ঘণ্টা দেড়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকলমন্ত্রী পরে বলেন, 'রঙের কারখানা থেকেই আগুন লাগে। তবে বেশ কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি।'
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours