পরবর্তীতে আগে সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের ভগবানগোলা পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীদের বহরমপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে চলতি বছরে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা কমে গিয়েছে। কারণ যে সমস্ত ছেলেরা বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা, তারা ভগবানগোলা যেতে ইচ্ছুক নয়, আবার ভগবানগোলা এলাকার ছাত্রীরা বহরমপুরে আসতে ইচ্ছুক নয়। চলতি বছরে ৭৩ জন ভর্তি হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৬৬ জন ছাত্রী খবর কলেজ সূত্রে। কিন্তু কেন কাজ ছাড়লেন পরপর তিন ওয়ার্ডেন? 
 'কিছু তো একটা আছেই, এক সপ্তাহও টিকছে না', কীসের ভয়? নোটিস সাঁটিয়ে কলেজে ছাত্রীদের ক্লাসই বন্ধ করে দিল কলেজ কর্তৃপক্ষ!
মুর্শিদাবাদের DIETC কলেজ

কো এড কলেজ! কিন্তু সেখানে ছাত্রীদের ক্লাস বন্ধ। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় কো-এড কলেজে ছাত্রীদের ক্লাস বন্ধ। DIETC কলেজে ছাত্রীদের ভগবানগোলা থেকে বহরমপুরের মেইন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত করা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। জানা যাচ্ছে, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ছাত্রী হস্টেলে পরপর তিন ওয়ার্ডেনের ইস্তফা। ওয়ার্ডেনহীন হস্টেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছাত্রীরা। প্রশ্ন উঠছে, কীসের ভয়ে পরপর চাকরি ছাড়লেন তিন ওয়ার্ডেন? কলেজে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কলেজ কর্তৃপক্ষও। রীতিমতো কলেজের বাইরে নোটিস সাটানো হয়ে গিয়েছে।

সর্বশিক্ষা অভিযানে জেলায় জেলায় তৈরি হয় একটি করে ডায়েট কলেজ। মুর্শিদাবাদ জেলায় সেই কলেজটি হয় বহরমপুরের চুয়াপুরে। এছাড়াও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি করা হয় ভগবানগোলায়। ভগবানগোলা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ে পড়াশোনা করত। এছাড়াও ছিল হস্টেল ব্যবস্থা। ২০২৪ সাল থেকে ভগবানগোলার যে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের থাকার হস্টেল সেখানে অজ্ঞাত কারণে একের পর এক ওয়ার্ডেন কাজ ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে নিরাপত্তার অভাবে প্রশিক্ষণ শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়। ভগবানগোলায় শুধুমাত্র ছাত্ররা পড়বে ও বহরমপুরের মেইন ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা।


পরবর্তীতে আগে সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া ছাত্রদের ভগবানগোলা পাঠানো হয়েছে। ছাত্রীদের বহরমপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে চলতি বছরে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা কমে গিয়েছে। কারণ যে সমস্ত ছেলেরা বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা, তারা ভগবানগোলা যেতে ইচ্ছুক নয়, আবার ভগবানগোলা এলাকার ছাত্রীরা বহরমপুরে আসতে ইচ্ছুক নয়। চলতি বছরে ৭৩ জন ভর্তি হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৬৬ জন ছাত্রী খবর কলেজ সূত্রে। কিন্তু কেন কাজ ছাড়লেন পরপর তিন ওয়ার্ডেন?

কলেজের প্রিন্সিপ্যাল বিকাশ সামন্ত বলেন, “আমরা যাঁদেরকেই পাঠাচ্ছি, কোনও একটা অজ্ঞাত কারণে কাজ করতে চাইছেন না। ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা থাকে, তারা নিরাপত্তাহীনতায় থাকছে। তাদের সঙ্গে কোনও মহিলা ওয়ার্ডেন থাকছে না। প্রথমে ছিলেন সুপর্ণা নস্কর। তিনি বেশ কিছু কাজ করেন, তারপর ইস্তফা দিয়ে চলে যান। এরপর আমি ২০২৪ সালের পর চুক্তিভিত্তিক একজনকে নিয়োগ করি। তিনি এক সপ্তাহ কাজ করতে না করতেই ইস্তফা দিলেন। কোনও কথাই জানাল না। কী কারণ, সেটা বুঝতে পারছি না।”

বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “প্রশ্ন তো একটাই, কেন নিরাপত্তা দিতে পারবে না? যারা পড়াশোনা করে ওই কলেজে তারা যাবে কোথায়ঁয পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে, সরকারি নিজে স্বীকার করছে নিরাপত্তা দিতে পারছি না।”

যদিও তৃণমূলের দাবি, ছাত্রী সংখ্যা কমে গিয়েছে, এটাই আসল কারণ। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “আগে ১৫০-২০০ ছাত্রী ছিল। এখন কমে গিয়ে কোথায় ঠেকেছে। তাদের বাবা-মাও চাইছেন পাশের উইমেন্স কলেজে মেয়েদের পড়াতে। যাতে পঠনপাঠনের কোনও সমস্যা না হয়, এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। “


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours