*ভক্তি আর বিশ্বাসের লড়াই, বাবার মাথায় জল ঢালতে বকখালি থেকে দন্ডি কেটে চন্দনশ্বরে চলল হরিপুরের বাসুদেব*
মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে এসে মহাদেবের চরণে কৃতজ্ঞতা জানাতে এক কঠিন সংকল্প নিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার হরিপুরের বাসিন্দা বাসুদেব জানা। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বাসুদেব ইলেকট্রিকের কাজ করতে গিয়েই বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর হাত ভেঙে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করার সময় তিনি মনে মনে মানত করেছিলেন— ‘সুস্থ হয়ে ফিরলে দণ্ডী কাটতে কাটতে চন্দনেশ্বর যাবেন।’
বাসুদেব আজ সুস্থ। কিন্তু তাঁর সেই কঠিন প্রতিজ্ঞা তিনি ভোলেননি। শিবচতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে বকখালির সমুদ্রতট থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। লক্ষ্য— ওড়িশার প্রখ্যাত চন্দনেশ্বর মন্দির। বকখালি থেকে চন্দনেশ্বরের দূরত্ব কয়েকশো কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ তিনি হেঁটেই নয়, বরং প্রতিটি ইঞ্চি পথ ‘দণ্ডী’ (শুয়ে পড়ে প্রণাম করে অগ্রসর হওয়া) কেটে অতিক্রম করবেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সুদীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পথে বাসুদেবের সঙ্গে কোনো সঙ্গী নেই। একাই নিজের বিশ্বাসের টানে এগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রতিদিন চড়া রোদে কয়েক কিলোমিটার করে দণ্ডী কাটবেন বাসুদেব। তাঁর এই অন্তহীন ভক্তি দেখে রাস্তার সাধারণ মানুষও অবাক হয়ে যাচ্ছেন।
বাসুদেব জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ফিরে আসাটা তাঁর কাছে পুনর্জন্মের মতো। তাই বাবার মাথায় জল ঢেলে তার মানত পূরনের ইচ্ছে। বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা শেষ হতে সময় লাগবে কয়েক মাস। কিন্তু বাসুদেবের চোখে-মুখে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই, আছে শুধু শিবের চরণে পৌঁছানোর দৃঢ় সংকল্প।
স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার


Post A Comment:
0 comments so far,add yours