সন্দেশখালিতে তাঁকে ঘিরে এখন জনজোয়ার। কিন্তু সেই রেখা পাত্র এখন তৃণমূলের নিশানায়। তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি লেখা হয়েছে, 'রেখা পাত্রের স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ব্যাপারে খোঁজ নেবেন।'

সন্দেশখালির রেখা পাত্রের 'ব্যক্তিগত তথ্য' প্রকাশ্যে আসায় তৃণমূল-বিজেপির আকচাআকচি
সন্দেশখালিতে প্রচারে রেখা পাত্র


বসিরহাট: বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী সন্দেশখালির রেখা পাত্রর ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ প্রকাশ্যে আনার অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, রেখা সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী। আর সে দাবির সত্যতা তুলে ধরতে রেখা পাত্রের ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সুবিধা নিয়ে দিল্লির জমিদারদের সঙ্গে জুড়েছেন রেখা। আর সেই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, নারী নির্যাতনের অভিযোগে যখন শেখ শাহজাহান, শিবু হাজরাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল সন্দেশখালিতে, সেই আন্দোলনের মুখ ছিলেন রেখা পাত্র। একেবারে দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ পৌঁছে যায় জাতীয় স্তর পর্যন্তও। রেখা পাত্রের অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন সন্দেশখালির ২ নম্বর ব্লক সভাপতি শিবু হাজরা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে সেই রেখা পাত্রকেই বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থী করে চমক দিয়েছে বিজেপি। গত মঙ্গলবার রেখা পাত্রকে ফোন করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপর থেকে তিনি এখন হেভিওয়েট প্রার্থী।


সন্দেশখালিতে তাঁকে ঘিরে এখন জনজোয়ার। কিন্তু সেই রেখা পাত্র এখন তৃণমূলের নিশানায়। তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি লেখা হয়েছে, ‘রেখা পাত্রের স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ব্যাপারে খোঁজ নেবেন।’ বিজেপির বক্তব্য, রেখা পাত্র একজন বঙ্গবাসী। তিনি সন্দেশখালির বাসিন্দা। আগে তার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সেটা মাত্র কিছু দিন হয়েছে। তার আগে একজন রাজ্যবাসী হিসাবেই রাজ্য সরকারের সুবিধা পেয়েছেন। এটাই স্বাভাবিক।

এ প্রসঙ্গে বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, “এটা কি কালীঘাটের টাকা। আমি ট্যাক্স দিয়েছি, সেই টাকা আবার ঘুরিয়ে নিচ্ছো। রাজ্য সরকারের সুবিধা নেবে না? লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নেবে, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা নেবে না কেন? তৃণমূল দিচ্ছে নাকি? সরকার কি এগুলো দেয় ভোট কেনার জন্য। উল্টে তাঁর পার্সোনাল ডিটেইলস বার করে ফেলেছে! একজন প্রার্থীর ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ বার করে নিয়েছে, এটা তো অপরাধ। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করব, এই বিষয়টা দেখার জন্য।”


যদিও তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের তথ্য তো পোর্টালে গেলেই দেখা যায়, সেটা তো গোপনীয় নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মহিলাদের জন্যই একাধিক প্রকল্প করেছেন। সরকারি বিমাতৃসুলভ আচরণ করেনি।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours