রাজধানী দিল্লিতে দু'দিন ধরে আয়োজিত হল ফিউচার ক্রাইম সামিট ২০২৪। লক্ষ্য হল, সাইবার অপরাধ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ানো। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। ফিউচার ক্রাইম রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও আইআইটি কানপুরের AIIDE COE যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাইবার বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পদস্থ কর্তারাও।

প্রাণ প্রতিষ্ঠা পর্বে ব্যাপক সাইবার প্রতারণার ফাঁদ, ধরা পড়েছে বিদেশিও
প্রতীকী ছবি

নয়া দিল্লি: অযোধ্যায় রাম মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ভগবান রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। দেশবাসীর বহু প্রতীক্ষিত এক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। অকাল দীপাবলি পালিত হয়েছে গোটা দেশে। অযোধ্যায় ভগবান রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের দিকে শুধু ভারতেরই নয়, গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের নজর ছিল। এদিকে ঠিক এই সময়টাকেই কাজে লাগাতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল দেশ-বিদেশের সাইবার অপরাধীরাও। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অন্তর্গত ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইসিসিসিসি) এবং অন্যান্য বিভাগের সাইবার ক্রাইম দমনের সঙ্গে যুক্ত কর্তারা এই বিষয়ের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তাতেই পর্দাফাঁস হয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্যের।


বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতার চেষ্টা চলছিল। ভুয়ো কিউআর কোড কিংবা ওয়েবসাইট বানিয়ে দান, রাম মন্দিরের প্রসাদ, মডেল ও প্রাণ প্রতিষ্ঠার ভুয়ো টোকেন বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কড়া নজরদারির ফলে অপরাধীদের সময়মতো আটকানো সম্ভব হয়েছে। সাইবার প্রতারণার কারবারে ধরা পড়েছে এক বিদেশি নাগরিকও। ওই বিদেশি নাগরিক ভারতে এসে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠার কয়েকদিন আগেই কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ফিউচার ক্রাইম সামিট ২০২৪-এ বক্তব্য রাখার সময় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ সচিব এস সুন্দরী নন্দা।

ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করে তুলতে কেন্দ্র যে কোনও খামতি রাখছে না, সে কথাও এদিনের সম্মেলনে তুলে ধরেন নন্দা। সাইবার অপরাধ দমনে কেন্দ্র যে অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, পদক্ষেপ করে যাচ্ছে, তাও জানালেন তিনি। সঙ্গে এও জানালেন, যে এই কাজে মাঝে মধ্যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। যেমন, জি-২০ সম্মেলনের সময় কিংবা প্রাণ প্রতিষ্ঠা পর্বের সময় ভারতে সবথেকে বেশি সাইবার অপরাধের চেষ্টা হয়েছিল, তবে সেগুলিকে সময় থাকতে থাকতে সামাল দেওয়া গিয়েছে।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours