‘আসনের কথা ভাবি না, মন জিততে কাজ করি…’, লোকসভা ভোটের আগে অকপট মোদী
PM Modi: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদী সরকার ৪০০-র বেশি আসন পাবে? নাকি বাধ সাধবে ইন্ডিয়া জোট? মোদীর 'গ্যারান্টি'র অর্থ কী? লোকসভা নির্বাচনের আগে এক হিন্দি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অকপট প্রধানমন্ত্রী মোদী।

'আসনের কথা ভাবি না, মন জিততে কাজ করি...', লোকসভা ভোটের আগে অকপট মোদী
কাজের ইতিহাসই তাঁর আত্মবিশ্বাস, জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (ফাইল ছবি)

নয়া দিল্লি: হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে বিজেপির দূর্দান্ত ফলের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদী সরকার ৩০০-র বেশি আসন পেতে চলেছে। কিন্তু, লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীরা জোট বেঁধেছে। তাতে কি বিজেপির জয় আটকানো যাবে? নাকি, ভোটের আগের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে আরও সামাজিক উন্নয়ন, আরও নতুন নতুন কল্যাণমূলক প্রকল্পের ‘গ্যারান্টি’ দেবেন মোদী? সেই সঙ্গে, ২০২৪-এর ২২ জানুয়ারি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জমকালো উদ্বোধনও রয়েছে। এই সমস্ত বিষয় এবং আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দৈনিক জাগরণ সংবাদপত্রে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা নির্বাচনের আগে কী বললেন বিজেপির ক্যপ্টেন?
সাম্প্রতিক নির্বাচনী জয়

সম্প্রতি তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুটি পরামিতি দিয়ে এই জয়কে দেখা দরকার। প্রথমত, লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই জয় এসেছে। দ্বিতীয়ত, ইউপিএ জোট ইন্ডিয়া জোটে পরিণত হওয়ার পর এই জনাদেশ এসেছে। তাঁর মতে, এই নির্বাচনগুলি ছিল ইন্ডিয়া জোটের প্রথম পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় জনগণ বিরোধী জোটকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তাদের অস্থিতিশীল ও স্বার্থপর রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ। এছাড়া, জাতীয় স্তরে বিজেপির চ্যালেঞ্জ না থাকলেও, তারা রাজ্যগুলির নির্বাচনে তেমন সমর্থন পাচ্ছে না – এই মিথ্যা আখ্যানও এই ফলাফলে ধরা পড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

মোদীর গ্যারান্টি

প্রধানমন্ত্রীর মতে, গ্যারান্টি শব্দটি শুধুমাত্র তিনটি অক্ষর নয়। সাধারণ নাগরিকদের কাছে গ্যারান্টির চারটি প্রধান মাপকাঠি আছে – নীতি, উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব এবং কাজের ইতিহাস। এই চারটি বিষয়ের কোনও একটিতে খামতি থাকলেই, তাকে আর গ্যারান্টি বলা যাবে না। বলতে হবে ফাঁপা ঘোষণা। তাঁর মতে মোদীর গ্যারান্টি বললে, জনগণ তাঁর সরকারের বিগত বছরের ইতিহাসের দিকে নজর রাখে। একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার গত নয় বছরে গরিবদের জন্য চার কোটি বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। তাই আজ যখন তিনি মোদীর গ্যারান্টি হিসেবে বলেন, আরও দুই কোটি বাড়ি তৈরি করে দেবেন। মানুষ সেই কথা বিশ্বাস করে। কাজেই, নীতি এবং উদ্দেশ্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি, কাজের ইতিহাসও ঠিকঠাক রাখতে হয়। তিনি জানিয়েছেন, কংগ্রেস দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা বলেছিল। কিন্তু দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও দারিদ্র্য পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

ইন্ডিয়া জোট

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, বিরোধী জোটের অনেক দলই বলছে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনগুলিতে বিজেপিকে লড়াই করতে হয়েছে শুধু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। কিন্তু, লোকসভা ভোটে যখন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বে, তখন ফলাফল অন্যরকম হবে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর মতে, সামনে শুধু কংগ্রেস থাকলেও, পর্দার আড়ালে আসলে ইন্ডিয়া জোটই লড়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আসলে, বিজেপি প্রার্থীদের ভোট কাটতে ইন্ডিয়া জোট একটি বিভ্রম তৈরি করেছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু জনগণ তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে। এখন তারা হতাশা থেকে উত্তর ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে নির্বাচনী প্রবণতা আলাদা বলে প্রচার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু, দেশের মানুষের মধ্যে এই ধরনের কোনও প্রভেদ নেই। ভারতের মানুষ কোনো ধরনের বৈষম্যে বিশ্বাস করে না। এটা বিরোধীদের অহংকারী জোটের আরেকটি মিথ্যার বেলুন।

আব কি বার ৪০০ পার

আসন্ন নির্বাচনে ৪০০ আসন পাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০১৪ সালের আগের তিন দশকের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশের কতটা ক্ষতি করেছে, তা দেশের প্রতিটি নাগরিক আজ উপলব্ধি করছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের চোখ ভারতের দিকে। গোটা বিশ্ব ভারতের কাছ থেকে নতুন কিছু প্রত্যাশা করছে। এমন পরিবেশে দেশের কেউ ভারতকে ফের অস্থিতিশীলতায় ডুবিয়ে দিতে চাইছেন না। নিমজ্জিত করতে চায় না। সাধারণ মানুষ আজ আগের থেকে আরও শক্তিশালী, যোগ্য সরকারের পক্ষে। তবে, তাঁর কাছে কতগুলি আসন পেলেন, তার থেকেও জনগণের মন জয় করাটাই বেশি প্রাধান্য পায়। তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের মন জয় করার চেষ্টা করি, পরিশ্রম করলে মানুষ নিজেই আমার ঝুলি ভরে দেবে।

অযোধ্যা রাম মন্দির

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, গোস্বামী তুলসীদাস লিখেছিলেন, শ্রীরাম দর্শনে জীবন সফল হয়। আমার সৌভাগ্য যে, আমি এই পবিত্র কাজে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছি। হাজার হাজার বছর ধরে, প্রভু রাম আমাদের সকলের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। মোদী বলেছেন, তিনি যদি প্রধান সেবক হিসেবে অযোধ্যায় যাওয়ার পরিবর্তে, ওই দিন একজন সাধারণ নাগরিক হয়ে গ্রামে বসে থাকতেন, তবেও তাঁর মনে সমান আনন্দ ও তৃপ্তি থাকত। তিনি দাবি করেছেন, রাম মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের সুখ শুধু তাঁর একার নয়, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এতে সুখি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, এক দেশে দুটি আইন চলতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট এই ধারনাকেই অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের মানুষের উন্নয়ন এবং তাদের জীবনযাত্রা সহজতর করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করা। তিনি জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ কোনও স্বার্থপর রাজনীতির অংশ হতে চান না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো তাঁরাও কোনও বৈষম্য ছাড়া সন্তানদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর থেকে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের চেহারাই পাল্টে গিয়েছে। আগে সেখানে শুধু সন্ত্রাসবাদ ছিল। এখন সেখানে পর্যটকদের ভিড় জমছে। সিনেমা হলে সিনেমা দেখানো চলছে। পাথর ছোড়া বন্ধ হয়ে গিয়ে, সিনেমার শুটিং হচ্ছে। যারা আজও রাজনৈতিক স্বার্থে অনুচ্ছেদ ৩৭০ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রপতি মোদীর বার্তা, মহাবিশ্বের কোনও শক্তিই অনুচ্ছেদ ৩৭০-কে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours