এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফাইলের পর ফাইল উধাও। আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আলমারির পর আলমারি নেই। আর পাচ্ছে, কারণ ওদের লোক বসে। তৃণমূলের সরকার কারও চাকরি খায়নি।


আদি বালিগঞ্জ পুজোর উদ্বোধনে এসে বাম আমলের বাংলা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পুজোর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একদিন তো এই বাংলাতেই ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল। বাংলার সেই গ্ল্যামারটা গত ৩৪ বছরে সিপিএম থাকাকালীন নষ্ট করে ফেলেছিলাম। শুধু বদনাম, বদনাম। কখনও কৃষকের জমি দখল, কখনও গুলি চালনা, কখনও পা কেটে দেওয়া, কখনও নাক কেটে দেওয়া। কখনও ২১ জুলাই ১৩ জনের হত্যা, সিঙ্গুরের তাপসী মালিক হত্যা, নন্দীগ্রাম। এখানে এই কথাগুলি বলা উচিত কি না জানি না, তবে পাড়াটা দেখে মনে পড়ল।” এদিন বামেদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিটি শব্দই ছিল বেশ ধারাল। অন্যদিকে এদিনও ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্যের বিকৃতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি-সিপিএম তো এখন এক। সলিল চৌধুরীর গান চলছে, পথে এবার নামো সাথী…ওইটা দিয়ে চালাচ্ছে। মনে হচ্ছে ফিরে আসছে আর কী, কেউ ডাকছে ওকে ফিরে আসতে। কেউ কেউ বলছে, ‘৩৪ বছরে আমাদের সরকার তো এমন কিছু করেনি, তাই তোমরা কিছু করতে পারোনি’। আমি বলি ওটা মিথ্যা। কারণ আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম, বদলা নয়। বদলা নয় বলেই জেনেশুনেও একটা গায়ে হাত দিইনি।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফাইলের পর ফাইল উধাও। আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আলমারির পর আলমারি নেই। আর এখন পাচ্ছে, কারণ ওদের লোক বসে। তৃণমূলের সরকার কারও চাকরি খায়নি। ফের সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মমতাকে বলতে শোনা যায়, “বিকাশবাবুকে বলুন আপনি কেস করবার আগে বার্থ সার্টিফিকেটটা যে দিয়েছিলেন, যেটা সবথেকে বড় স্ক্য়াম, সে কাগজগুলো কোথায়? আমাদের কাছে আছে। চুপি চুপি দেব, লুকিয়ে লুকিয়ে দেব। যখন চ্যালেঞ্জ করেছেন। সারদা কাদের আমলে এসেছে? আমি তো ২০১২ সালে গ্রেফতার করিয়েছি। আজ বড় বড় কথা। চোরের মায়ের বড় গলা।”

এদিন ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিকৃত বক্তব্য নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনেক বড় বড় কথা, জ্ঞান দিচ্ছেন কয়েকজন। খুব জ্ঞান। রোজ আমাকে নিয়ে ভ্যাঙাচ্ছে। ভ্যাঙাও। ভ্যাঙাতে ভ্যাঙাতে তুমি যেদিন নিজে বেঁকে যাবে সেদিন আমি তোমাকে সোজা করে দেব ভাল ডাক্তার দেখিয়ে।” এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমরা তো পিতৃপক্ষ বলতে গিয়ে… লোডশেডিং হয়ে গেছে, শ্রীভূমিতে চণ্ডীমন্ত্র ফেল। তারপর কাঁচি রেখে দিয়েছে। মাতৃপক্ষে আবার বেরিয়েছে।” বোসপুকুর শীতলা মন্দিরের পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “বিজেপির লোকেরা বলছে আমি নাকি মন্ত্রই জানি না। যা জানি তা তোমাদের কান ধরে শেখাতে পারি। আরে ওইদিন সুজিতদের ওখানে শ্রীকুমার পরলো চণ্ডী। আগেরটা পরে পড়ছে। পরেরটা আগে। একটা ডিস্টার্ব হল। এরকম আগে পরে করলে অসুবিধা হয়। আর তাই দেখে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু করল উনি মন্ত্র জানেন না।”
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours