রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখে এই নিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। বাম, বিজেপি সব শিবির কটাক্ষ করতে শুরু করে দিয়েছে।

Mamata Banerjee: রাষ্ট্রপতির কাছে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার অনুরোধ মমতার, বিরোধীরা স্মরণ করাচ্ছে অম্বিকেশদের কথাদ্রৌপদী মুর্মু ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা: দুই দিনের সফরে বাংলায় এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। রাষ্ট্রপতিকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য সোমবার নেতাজি ইনডোরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে। সেখানে রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অনুরোধ, ‘ম্যাডাম, প্লিজ গরিব মানুষদের তথা সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করুন। দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করুন।’ কিন্তু মমতার এই মন্তব্য নিয়ে পাল্টা রাজ্য সরকারকেই নিশানা করেছে বিরোধীরা। বাম, বিজেপি সব শিবির কটাক্ষ করতে শুরু করে দিয়েছে।


বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তাতে কোনও ভুল নেই। কারণ, সংবিধানকে রক্ষা ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষাই সকলেই দায়িত্ব। একইসঙ্গে সুজনবাবুর প্রশ্ন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি তাঁকে পাল্টা জিজ্ঞেস করতেন অম্বিকেশ মহাপাত্রদের নাম আপনার মনে আছে? যাঁরা চাকরির দাবিতে দফতরে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে পুলিশের পেটানি খাচ্ছে, তাদের যে নাগরিক অধিকার হনন হচ্ছে, এই ব্যাপারে আপনার জানা আছে কি? তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কী বলতেন জানা নেই, কিন্তু বাংলার মানুষ লজ্জা বোধ করত মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া শুনে।’

খোঁচা দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষও। দিলীপ বাবুর বক্তব্য, ‘ঠিকই বলেছেন। সংবিধান রক্ষার কাজ রাষ্ট্রপতির। তিনি সেই কাজই করছেন। ওঁকে জ্ঞান দিতে হবে না। উনি(দ্রৌপদী মুর্মু) মন্ত্রী ছিলেন। রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছেন। উনি জানেন কোনটা তাঁর কাজ। এরা(রাজ্য সরকার) তো রাজ্যপালকে পকেটে পুরে ফেলতে চেয়েছিল। রাজ্যপাল যখন নিজের মতো করে কথা বলছেন, তখনই ঝগড়া লাগছে। এঁরা(রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল) জানেন নিজেদের কাজ করতে, তাই তাঁদের পদে বসানো হয়েছে।’


রাষ্ট্রপতির কাছে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার অনুরোধ করায় মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যও। বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্রর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে তো এই রাজ্যের সরকারকে সরিয়ে দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে ৩৫৬ ধারা জারি করতে হয়। বললেন, ‘এখানে সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। শাসকের আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, প্রতিবাদকে রক্তাক্ত করে বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়েছে। মানুষের শিক্ষার অধিকার নীল আকাশে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষের মেধাকে চড়া বাজারে বিক্রি করে তাঁকে প্রতারিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এই ধরনের বক্তব্য রাখার নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার কি মুখ্যমন্ত্রী বা তৃণমূলের কোনও নেতার আছে?’
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours