জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগে দূর্ণীতি নিয়ে ফের সরব হলেন কার্শিয়ংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বিনয় তামাং, অনীত থাপাদের আমলেই দূর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। বিজেপি বিধায়কের আরও অভিযোগ, বিনয়-অনীতদের সুপারিশেই চাকরি পেয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষিকারা। ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীও জড়িত বলে আজ শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিষ্ণুপ্রসাদের দাবি, ২০১৯-এর ২৩ জানুয়ারি দার্জিলিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী নেতাজির জন্মদিবস পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন। প্রথমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয় শিক্ষক, শিক্ষিকাদের। পরবর্তীতে তাঁদেরকেই ক্ষমতাসীন নেতাদের সুপারিশে স্থায়ী করা হয়। অথচ যোগ্য প্রার্থীরা আজও নিয়োগ পত্র পাননি। আর ওই সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ইডি গ্রেফতার করেছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে। গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী সহ আরো দুই আধিকারিক।
ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের কাছে এ নিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন বিষ্ণুপ্রসাদ। তাঁর দাবি, অবিলম্বে এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরু করুক সিবিআই এবং ইডি। আর তদন্ত শুরু হলে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতিও সামনে চলে আসবে। প্রসঙ্গত ওই সময়ে জিটিএ এলাকায় প্রাথমিক স্কুলে ১২১ জন, আপার প্রাইমারি স্কুলে ৩১৩ জন এবং হাইস্কুলে ৫৯ জনকে অন্যায়ভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক।

তাঁর দাবি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন নেতাদের সুপারিশের নিরিখেই এই চাকরি পেয়েছেন। ব্লক এবং মহকুমাভিত্তিক সুপারিশ এসছে। সব নথি ও তথ্য তার হাতে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা চাইলেই সহযোগিতা করবেন তিনি। এ দিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে জিটিএ-র বর্তমান চেয়ারম্যান অনীত থাপা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম ভাঙা হয়নি। যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে। যদিও এ নিয়ে তৎকালীন জিটিএর চেয়ারম্যান বিনিয় তামাংয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও একটি মামলা রুজু করেছেন যোগ্য প্রার্থীরা।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours