covid 19 Update

Top News

ফের জেলায় উদ্ধার বোমা। এক ব্যাগ বোমা উদ্ধার হল মালদায়। তাও আবার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত দফতরের পিছনে। জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত দপ্তরের পেছনে তিনশো মিটার অদূরে কলা বাগান থেকে উদ্ধার হয়েছে তাজা বোমাগুলি।

মঙ্গলবার দুপুরের ঘটনা। মালদার চাঁচল থানার মহানন্দাপুর পঞ্চায়েত দফতরের পিছন দিক থেকে উদ্ধার হয়েছে বোমাগুলি।জানা গিয়েছে, স্থানীয়দের নজরেই প্রথম পড়েছে ওই এলাকায় বোমা পড়ে রয়েছে। তারপরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সেখানেই। জানা গিয়েছে, কয়েকটি বোমা ব্যাগের ভিতর ছিল, কয়েকটি বাইরে।


খবর পেয়ে চাঁচল থানার আই.সি সুকুমার ঘোষের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মালদা থেকে বোমস্কোয়াড রওনা দিয়েছে। দিনে-দুপুরে এমন ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে মহানন্দাপুর এলাকায়। এই ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘কলাবাগানে বোমা উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে কোথা থেকে আসল। তা কেউ জানে না। বোম স্কোয়্যাডকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তাঁরা খতিয়ে দেখবে।’


বস্তুত, কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে বোমা উদ্ধার হয়। সাতটি ড্রামে আনুমানিক ৩০০ টি বোমা থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আবু বক্কর টিটি। নতুন করে ময়নায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের গোড়ামাহাল গ্রামে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি জঙ্গল থেকে ১০ টি প্লাস্টিক ড্রামের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাজা বোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এলাকায় আগে থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড, ময়না থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এবং তমলুকের এসডিপিও আলি আবু বক্কর টিটি। এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রেখে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, আনুমানিক ৫০০ টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। তারই মধ্যে আরও ৩০০ টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক নতুন করে দানা বেঁধেছে।

বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক দুধ ব্যবসায়ীর। মৃতদেহ আনা হলো ময়নাতদন্তে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণব নগর থানা ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জরলাহী পাড়া এলাকায়। মৃত ওই দুধ ব্যবসায়ীর নাম গজেন ঘোষ বয়স(৪৬) বছর।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় প্রত্যেক দিনের মতো গতকাল বিকেলে ও ব্যক্তি বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে মাঠে গরু চরাতে যায়। সেই সময় হঠাত্‍ই ঝড় বৃষ্টি নেমে আসে। ঝড় বৃষ্টির সময় হঠাত্‍ই বাজ পড়ে তার শরীরে। সেখানে ওই দুধ ব্যবসায়ী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বৈষ্ণব নগর থানার পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃত ব্যক্তির পরিবার সহ গোটা গ্রামে।

দশ হাজার টাকা হাতে দিলেই সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে কোটি কোটি টাকার সোনা। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন বিএসএফ- এর সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের কর্তারা। আর তাতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও কড়া নজরদারির নির্দেশ জারি।

সোমবার সকালে ১৭৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের এক কর্তার কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, মোটা অঙ্কের টাকার সোনা ঢুকছে সীমান্ত পেরিয়ে।শুধু তাই নয়, যখন খবর আসে, ততক্ষণে বাংলাদেশ থেকে অনেক লরি রপ্তানি সেরে ফিরেছে এ দেশে। তাহলে কি পাচারকারী হাতছাড়া হল?


বিলম্ব না করেই বিএসএফ জওয়ানরা আইসিপি পেট্রাপোল প্যাসেঞ্জার গেটের কাছে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশি শুরুর পর হরিয়ানার একটি লরির চালকের সঙ্গে কথা বলে জওয়ানদের সন্দেহ হয়। গাড়ি থেকে ওই চালককে নামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। চালকের আসনের পিছনের অংশে কালো কাপড়ে মোড়া অবস্থায় একটি প্যাকেট বেরিয়ে আসে। আর ওই প্যাকেট খুলতেই মেলে ৭০টি সোনার বিস্কুট ও তিনটি সোনার বার। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ছ'কোটি টাকা।চালককে গ্রেফতার করে শুরু হয় জেরা।


বিএসএফ সূত্রে খবর, বনগাঁর জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় লরি চালক রাজ মণ্ডল এ দিন বাংলাদেশের বেনাপোলে সামগ্রী রপ্তানি করে ফেরার সময় সাহাবুদ্দিন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি রাজকে বলেন পিন্টু নামে এক ব্যক্তি একটি প্যাকেট দেবেন। সেই প্যাকেট পৌঁছে দিতে হবে বনগাঁ-চাকদহ শেফালি ট্রাক পার্কিংয়ে। বিনিময়ে দশ হাজার টাকার রফা হয়েছে বলে বিএসএফ- এর জেরায় দাবি করেছে ধৃত রাজ।


এরপর ধৃত ওই প্যাকেট নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢোকে। ধরা পড়ে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে। ডিআইজি বিএসএফ সুরজিত্‍ সিং গুলেরিয়া জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় খবর এসেছিল। আমাদের জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে লরি চালককে গ্রেফতার করেছেন। সোনা উদ্ধারের পর শুল্ক দফতরকে তুলে দেওয়া হয়েছে।


এই ভাবে টাকা টোপ দিয়ে ওপার বাংলা থেকে সোনা পাচারের যে কারবার চলছে, তা ভাবাচ্ছে বিএসএফ কর্তাদের।শুধু ১৭৯ ব্যাটেলিয়ন নয়, এদিন জয়ন্তীপুরেও ১৫৮ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা তল্লাশি চালানোর সময় একটি বাইক থেকে সোনা উদ্ধার করেছেন। একই সঙ্গে উঠে এসেছে চোরাকারবারীর মূল পাণ্ডাদের নামও।







সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেবার নাম করে যুবতিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই যুবতিকে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেবার নাম করে যুবতিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই যুবতিকে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।আরও অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে জোর করে সাদা কাগজে সই করিয়ে রেজিস্ট্রি করে অভিযুক্ত। অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পূর্ব বর্ধমানের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি।

পুলিশকে দেওয়া যুবতির অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতা শাসকদলের হেভিওয়েট বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেয়। সংসাদে দারিদ্রতা থাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওই নেতা যুবতিকে নানা জায়গায় নিয়ে যেতেন। তারপর সারাদিন ধরে জোর করে ধর্ষণ চালাতেন তিনি। এমনকি এই কথা প্রকাশ্যে আসলে বিপদ হবে, হুমকিও দেওয়া হয় ওই তৃণমূল নেতার তরফে। নির্যাতিতার অভিযোগ, বারবার তাঁকে , তাঁর বাবা-মাকে খুনের হুমকি দেওয়া অভিযোগ উঠেছে।জোর করে একাধিক সাদা পেপারে, সই করিয়ে নেয় অভিযুক্ত। এমনকি ওই যুবতিকে স্ত্রী সাজিয়ে ছবিও তুলে রাখা হয়। যাতে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ না করতে পারে। খোলামেলা পোষাক পরিয়ে তারপর ধর্ষণ করা হত। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তৃণমূল নেতার হাত থেকে বাঁচার জন্য, ওই যুবতি পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসেন নদিয়ার হাঁসখালিতে। গত ২২ মে দুই অপরিচিত ব্যাক্তি এসে তাঁদের নিজের জায়গায় ফিরে যেতে বলেন। ওই ঘটনার পর হাঁসখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা যুবতি। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।রাজ্যে ফের আরও একটা ধর্ষণকাণ্ডে উদ্বেগ বাড়ল প্রশাসনের। বিশেষ করে এই ঘটনায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠায় কার্যত চাপের মুখে দল। এদিকে রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণ, গর্ভপাতের ঘটনা লেগেই আছে। সম্প্রতি বনগাঁ এলাকাতেও একটি নাবালিকার সঙ্গে একই ঘটনা ঘটেছে। তফাত্‍ শুধু এটুকুই যে, সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না দিয়েই ঘনিষ্ঠ হয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে প্রেমিকাকেই। কিন্তু কথা হচ্ছে আর কত এই ধরণের ঘটনা হবে পশ্চিমবঙ্গের বুকে। কেন এই নৃশংসঘটনাগুলিতে যবনিকা টানা যাচ্ছে না, কেন রাজ্যের অপরাধ মনষ্কদের লাগাম পড়ানো যাচ্ছে না, ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে সমাজের স্তরে।পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ছাত্রী-মহিলা-গৃহবধূ একা বাইরে বের হতে রীতিমতো আতঙ্কে থাকছে। গ্রাম বাংলা, মফস্বলে শুনশান এলাকাগুলিকেই টার্গেট করছে ধর্ষণকারীরা। তবে পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনার হাজারো উদাহরণ রয়েছে কলকাতার বুকে। গোবরডাঙা, দেগঙ্গা, মালদহ, মাটিয়া, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ি, শান্তিনিকেতন একের পর এক ধর্ষণ হয়েই চলেছে রাজ্যে। প্রায় প্রতিসপ্তাহেই একাধিক গণধর্ষণের ঘটনা উঠে আসছে। কোথাও খুনের হুমকি, কোথাও ধর্ষণের পর হত্যা, কোথাও আবার ধর্ষণের পর দেহ দাহ করা হচ্ছে। ভয়াবহ একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে পশ্চিমবঙ্গে।

মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে একেবারে তুলকালাম কাণ্ড। তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইত ও তার ভাই শান্তনু গুছাইতের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

এসএসসি, গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, প্রাথমিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা কর্মপ্রার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকিন্তু আদপে কি চাকরি দিতে পারতেন অতনু? স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েকজন অতনুর হাত ধরে চাকরি পেয়েছিলেন। এতে মানুষের বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। জমি, জায়গা, সর্বস্ব বিক্রি করেও তাঁরা অতনুর হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।তবে পরে তাঁরা বুঝতে পারবেন চাকরি আর জুটবে না।


এদিকে ২০০৩ সালে কোলা ১ পঞ্চায়েত সদস্য ও ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুত্‍ কর্মাধক্ষ হয়েছিলেন তিনি। কোলাতে তার বিশাল বাড়িও রয়েছে। তবে সেসব তালাবন্ধ করা বর্তমানে। বর্তমান গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। এক কর্মপ্রার্থী বলেন, অতনু গুছাইত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। আমার কাছ থেকেও বাড়িতে এসে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন। তত্‍কালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলে তিনি টাকা নিয়েছেন। যারা টাকা দিতে পারত না তাদের কাছ থেকে সোনা নিত।


বিপুর প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার মেয়ে আর সম্বন্ধীর চাকরির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা নিয়ে গেল। অতনু বলত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওর যোগাযোগ আছে। প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল।কিন্তু টাকাও ফেরত্‍ দিল না, চাকরিও হল না।তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। বিজেপির দাবি, ওই লোকটা টাকা মারার ক্লাবের দালাল।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রাক্তন পুলিশ কর্মীকে গুলি করে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন মৃতের ভাইপো। তিনি পেশায় পুলিশ কর্মী।গতকাল সন্ধ্যায় নদিয়ার কল্যাণী থানা গয়েশপুরে প্রাক্তন পুলিশকর্মী জনার্দন কর্মকারকে বাড়ির সামনে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই পুলিশ কর্মী।

পরে উদ্ধার করে কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকরা মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে কল্যাণী থানার পুলিশ।
ধৃতদের মধ্যে একজন মৃত ব্যক্তির ভাইপো।

গোটা ফ্ল্যাট জুড়ে বিষাক্ত গ্যাস (Toxic Gas) আর তাতেই তিনজনের মৃত্যু(Death)। আত্মহত্যা করার এমন ব্যবস্থায় রীতিমতো হতবাক প্রতিবেশীরা।এই হাড় হিম করা ঘটনার জেরে রাজধানী দিল্লি(Delhi) আবার শিরোনামে।

রবিবার দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহার (Basant Bihar in South Delhi) এলাকায় একটি বিলাসবহল ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে নিজেদের ঘরকে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার এ পরিণত করে একই পরিবারের তিনজন আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন। ফ্ল্যাট থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, দয়া করে ঘরে ঢুকে কেউ দেশলাই জ্বালবেন না। এতে আগুন লেগে যেতে পারে। খুবই বিষাক্ত গ্যাস. ভিতরে ভর্তি কার্বন মনোক্সাইড। এটা দাহ্য। ঘরে প্রবেশ করে জানালা খুলে নেবেন এবং ফ্যান চালাবেন। এমন হাড়হিম করা ঘটনায় অবাক পুলিশ।


দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা, এমনটাই বলছেন প্রতিবেশীরা। মৃতার নাম মঞ্জু ও তাঁর দুই মেয়ে অংশিকা-অঙ্কু। পরিচারিকা ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত বছর করোনায় স্বামীর মৃত্যু হয়। সেই অবসাদ থেকেই এহেন সিদ্ধান্ত কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের সমস্তা জানালা, দরজা, ভেন্টিলেটর প্লাস্টিক দিয়ে আটকানো ছিল। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের নব খোলা রাখা ছিল এবং কয়লা দিয়ে জ্বলে এমন একটি রান্নার সরঞ্জাম জ্বালিয়ে রাখা ছিল।তার ফলে ঘরে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ভরে জায়গায় কোন মানুষের পক্ষেই বেশিক্ষণ বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না । ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আগে থেকে পরিকল্পনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

চোখের সামনে ঘটতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। বারবার বলেছিলাম, কক্স ও রেসকিউ টিমকে, ওদের ফিরে আসতে বলুন।" বলছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেবাংস চক্রবর্তী।

রবীন্দ্র সরোবর লেকে রোয়িং করতে গিয়ে দুই নাবালকের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ওই বোটের সওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এক্সক্লুসিভ নিউস এইন্টিন বাংলার প্রতিনিধিকে।দেবাংস চক্রবর্তী বলেন, "আমরা টুর্নামেন্টর জন্য প্র্যাক্টিস করতে শনিবার রোয়িং করছিলাম। হঠাত্‍ যখন দেখি আকাশে কালো মেঘে করে এল, কক্স (যিনি বোটের দিক নির্দেশ করেন) বললেন, পাড়ের দিকে চলো। কিন্তু এতটাই ঝোড়ো হাওয়া দিতে শুরু করে যে বোট উল্টে যায়। আমার পা আটকে গিয়েছিলো ওই বোটে। কোনওমতে পা বের করি টেনে।দেবাংস আরও বলেন, "এর পর বোট সোজা করতে বলেন কক্স। বোট আমরা সোজা করি যখন, তখনও পুষণ সাধুখাঁ ও সৌরদীপ চ্যাটার্জী ছিল আমাদের সঙ্গে। কক্স বলেন, সাঁতার কেটে চলে যেতে পারো পাড়ের দিকে। আর যে পারবে না সে বোট ধরে দাঁড়িয়ে থাকো। এর পর আমরা চারজন বেরোই সাঁতার কেটে পাড়ের দিকে। আমি হাফিয়ে যাই, বোটে ফিরে আসি। আমি কক্সকে বলি ওদেরকে ফিরে আসতে বলুন। কক্স বলেন, ওরা সাঁতার জানে চলে যাবে। ওই তিন জনের মধ্যে পুষণ, সৌরদীপ ছিল। ওরা হাফিয়ে যায় সাঁতার কাটতে গিয়ে সম্ভবত।"


দেবাংস বলেন, "আমরা তার আগে থেকে প্র্যাক্টিস করে হাফিয়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে যা হল ভাবতে পারছি না। আমি ও কক্স বোট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অন্য একটা বোট প্রাকটিস করছিল। তাঁরা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। আমি বারবার বলেছিলাম, রেসকিউ যাঁরা করতে আসে ও কক্সকে, ওদেরকে ডেকে নিন। কিন্তু তাঁর মাঝে ওদের দম ফুরিয়ে যায়, একজন ফিরে যায় পাড়ের দিকে। বাকি পুষণ, সৌরদীপ তলিয়ে যায়। ঘটনার পর আমারও ভয় লাগছে। চোখের সামনে বন্ধুরা হারিয়ে গেল, ভাবতে পারছিনা।"


দেবাংস বলছিলেন, "প্র্যাক্টিসে সময় কোনো দিনই ফলো বোট থাকে না। টুর্নামেন্টের দিন থাকত। শনিবার প্র্যাক্টিসের দিনও ছিল না ফলো বোট"।দেবাংস জানান, "চোখের সামনে যা ঘটল, জাস্ট ভাবতে পারছিনা। এরকম হবে স্বপ্নেও ভাবিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই বোটের সওয়ারি ছিল দেবাংস চক্রবর্তী। অভিশপ্ত ঘটনা দুঃস্বপ্নর মতো মনে হচ্ছে তাঁর। এরকম আর যেন না ঘটে কারো সঙ্গে... বলতে বলতেই গলা বুজে এলো।


ব্যাপক ঝড় বৃষ্টির জন্য গত শনিবার রীতিমতো প্লাবিত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বেশকিছু জেলা। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে এবং কলকাতা লাগোয়া বেশ কিছু অঞ্চল যেমন বারাসাত ব্যারাকপুর সমস্ত জায়গায় বৃষ্টি হয়েছিল ব্যাপক। তার সঙ্গী ছিল ৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া। আবহাওয়া দপ্তর এর নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অন্যান্য জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগর থেকে মৌসুমী বায়ু পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমেছে পশ্চিমবঙ্গের, এমনি বৃদ্ধি পেয়েছে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। তবে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গেই আদ্রতা জনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাবে বাংলায়। অন্যদিকে গতকাল এর তুলনায় আজকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সব মিলিয়ে আদ্রতা জনিত অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান,বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তার পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কলকাতা সহ বেশ কিছু জায়গায় আজকেও এরকম তাপমাত্রা রয়েছে। গতকালের মতই আজকেও কলকাতা এবং আশেপাশের বেশকিছু জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে।

বঙ্গতনয়ার অসাধ্যসাধন। কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় হুগলির বাসিন্দা পিয়ালি বসাকের (Piyali Basak)। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয় করলেন তিনি। উচ্ছ্বসিত অন্যান্য পর্বতারোহীরা। আপাতত শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন পর্বতারোহী।

চন্দননগরের কাঁটাপুকুরের বাসিন্দা পিয়ালি।বারবারই তাঁর চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। তবুও এতটুকু দমেননি তিনি। আর্থিক সংকটকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে চলতি মাসেই এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ১-এর উদ্দেশে রওনা দেন পিয়ালি। রবিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় স্বপ্নপূরণ হয়। অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় পিয়ালির। আপাতত ক্যাম্প ফোরে ফিরছেন তিনি। সামান্য বিশ্রামের পর অক্সিজেন ছাড়াই লোত্‍সে জয়ের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা পিয়ালির।আপাতত শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন বঙ্গতনয়া। অক্সিজেন ছাড়া পিয়ালির এভারেস্ট জয়ের বিষয়টি ভাবতেই পারছেন না পর্বতারোহী বসন্ত সিংহ রায়। তিনি বলেন, 'আমি ভাবতেই পারছি না এটা সম্ভব। একজন ভারতীয় মহিলা পর্বতারোহী যা করেছেন, তা অসাধ্য সাধন ছাড়া কিছুই নয়।' আগামিদিনে পিয়ালির আরও সাফল্য কামনা করেছেন পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত।

 

আর পাঁচজনের মতো চেনা স্রোতে কোনওদিনই গা ভাসাননি পিয়ালি। অঙ্ক নিয়ে স্নাতক। তারপর তিনি দেখেন বন্ধুবান্ধবরা রুজিরুটির টানে ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়েছেন। কিন্তু সেই দৌড়ে শামিল হতে মন সায় দেয়নি পিয়ালির। কারণ, ততক্ষণে তাঁর মনের দখল নিয়েছে পাহাড়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে 'হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট'-এ নাম লেখালেন পিয়ালি। এরপর আর ফিরেও তাকাননি। ২০১৮ সালে মানাসলু শৃঙ্গে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিলেন। মানাসলু বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। তারপর স্কুলশিক্ষিকা পিয়ালির লক্ষ্য ছিল সপ্তম উচ্চতম শৃঙ্গজয়। প্রথম ভারতীয় পর্বতারোহী অক্সিজেন ছাড়া নেপালের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো ৮,১৬৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ধৌলাগিরি জয় করেন পিয়ালি। এবার অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্ট জয়। এ নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় দ্বিতীয়বার পা রাখলেন বাংলার মেয়ে।
হাসপাতালে শৌচালয়ে ঢুকে আঁতকে উঠলেন অন্যরা। চোখের সামনে ঝুলছেন এক রোগী। কিছু আগেও তাঁকে পুরুষ ওয়ার্ডে দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাটোয়া হাসপাতালের এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবারই সঞ্জীব পাল (৪২) নামে ওই যুবককে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল।তার আগের সন্ধ্যায় এমন ঘটনায় কপালে হাত পরিবারের লোকজনের। মঙ্গলকোটের বনকাপাসির বাসিন্দা সঞ্জীব কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। তাঁর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। একটি গামছা নিয়ে শৌচাগারের দিকে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও স্বামী না আসায় খোঁজ নিতে যান স্ত্রী। এরপরই নজরে আসে ভয়াবহ সেই দৃশ্য।

সঞ্জীব পালের স্ত্রী দেবিকা পাল বলেন, “আমার স্বামী অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়া হাসপাতালের ১৩ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় ওকে। শনিবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ারও কথা ছিল। এরমধ্যে আজ সন্ধ্যায় বাথরুম যাব বলে আমার কাছ থেকে গামছা নিয়ে গেল। অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে গেলেও আসছে না দেখে আমি এগোই। বাথরুমের দরজা ঠেলতেই দেখি গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে।”

দেবিকার চিত্‍কার শুনে বাকিরাও ছুটে আসেন। হাসপাতালের কর্মীদেরও খবর দেওয়া হয়। তাঁরা এসেই দেহ নামিয়ে আনেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জীব পালের মানসিক সমস্যার ওষুধ চলছিল। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল সুপার সৌভিক আলম বলেন, “শুনেছি হাসপাতালে এক চিকিত্‍সাধীন রোগী হাসপাতালেরই শৌচালয়ে গিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। মানসিক কিছু সমস্যার কারণে তিনি ভর্তি ছিলেন। তবে কেন এই ঘটনা ঘটল তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” স্বামীর এই পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী। এখনও ভাবতেই পারছেন না স্বামী এমন কাণ্ড করতে পারেন। বারবারই বলছেন, “মানুষটা গামছা চেয়ে নিয়ে গেল, এমনটা করবে কখনও যেতে দিতাম না।”
২৯ টি ব্লক নিয়ে গঠিত সুন্দরবন।প্রায় ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস।মূলত চাষবাসের উপর নির্ভরশীল এলাকার মানুষ। বিগত কয়েক বছর যে ভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে এবং নদীবাঁধ ভেঙে এলাকা লবণাক্ত জলে প্লাবিত হচ্ছে তাতে করে পিছিয়ে পড়া সুন্দরবন এলাকায় চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।ফলে বর্তমানে ধান সহ অন্যান্য ফসলের চাষের পাশাপাশি মাছ চাষ সুন্দরবনবাসীদের জীবন জীবিকার অন্যতম অবলম্বন।আর আধুনিক পদ্ধতিগতভাবে মাছ চাষ না করার জন্য সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল মানুষদের কে বিপদের সম্মুখীনহতে হচ্ছে।যাতে করে সুন্দরবনবাসীরা কোন প্রকার বিপদের সম্মূখীন হতে না হয় তার জন্য তাদের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে এলো কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্র।আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ করার জন্য বিগত এক বছর পূর্বে ৫০০ পরিবার কে মাছের চারা চুন ও মাছের খাদ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।সেই সমস্ত চাষীদের নিয়ে গত তিনদিন ধরে কুলতলী মিলনতীর্থ সোসাইটির সহযোগীতায় এক সচেতনতা শিবির আয়োজন করেছিল কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ডঃ বসন্ত কুমার দাস।উপস্থিত ছিলেন কুলতলি মিলনতীর্থ সোসাইটির কর্ণধার লোকমান মোল্লা,আরিফ সরদার,অচিন্ত্য দিন্দা সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।
ডঃ দাস বলেন, সুন্দরবনের মত্‍স্য চাষীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রযুক্তি ও মাছের চারা, ফ্লোটিং ফিশ ফিড, চুন দেওয়া হয়েছিল গত এক বছর আগে। বর্তমানে আমাদের বিভাগীয় বিজ্ঞানীগণ সার্ভে করে রিপোর্ট তৈরি করেছেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আগামী দিনে সহযোগিতা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেবো। কারণ সুন্দরবনের অর্থনৈতিক মান উন্নয়নে মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল হতে।যা আগামী দিনে সুন্দরবনবাসীদের কে জীবনজীবিকা নির্ধারণে অন্যতম দিশা হিসাবে দেখা দেবে।'
বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা কুলতলী মিলনতীর্থ সোসাইটির কর্ণধার লোকমান মোল্লা বলেন, প্রতিবছর বন্যা,ঘূর্ণিঝড় এবং অতিবর্ষণে সুন্দরবন এলাকার মাছ চাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যান্য চাষও।বারে বারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সম্মূখীন হয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় ও মত্‍স্য গবেষণা সংস্থার অধিকর্তা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়িত করতে পারলে আগামী দিনে সুন্দরবনের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন হতে পারে l তিনি আরো বলেন, মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প পথ থাকে না। সুন্দরবনবাসীদের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই পরিস্থিতি। সুতরাং, ধান চাষ যখন ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে সে ক্ষেত্রে মাছ চাষই একমাত্র অন্যতম অবলম্বন।'
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার একের পর এক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণ। শুক্রবার এই ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও। এরপরই, নড়ে চড়ে বসল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রক। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (National Centre for Disease Control) এবং আইসিএমআর-কে (ICMR) ‘মাঙ্কিপক্স’ মহামারি পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘বিদেশে ‘মাঙ্কিপক্স’ পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখুন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি থেকে আসা অসুস্থ যাত্রীদের বিচ্ছিন্ন করুন এবং পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা এনআইভি পুনে-তে পাঠান’। বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

শুক্রবারই জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ইটালি, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের প্রথম ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। স্পেন ও পর্তুগালে আগেই বহু মানুষ আক্রান্ত ছিলেন। স্পেনে এদিনই আবার ২৩ টি নতুন কেস পাওয়া গিয়েছে। ব্রিটেন, এখনও পর্যন্ত ২০ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার, প্রথম সংক্রমণের ঘটনা সনাক্ত করা হয়েছিল আমেরিকায়। ম্যাসাচুসেটস-এর বাসিন্দা ওই ব্যক্তির কানাডা থেকে সম্প্রতি আমেরিকায় ফিরেছিলেন। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা জুড়ে এই রোগের সাম্প্রতিক বিস্তার দেখে বিস্মিত হয়েছেন ‘মাঙ্কিপক্স’ নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা। আফ্রিকায় অসংখ্যবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব তাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, এর আগে শুধুমাত্র আফ্রিকা থেকেই অন্য দেশে মাঙ্কিপক্স ছড়াতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু আফ্রিকার বাইরের কোনও দেশ থেকে অন্য দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, এমনটা এর আগে দেখা যায়নি।

ক্রমবর্ধমান ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের ঘটনার মধ্যেই, শুক্রবার এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে এক জরুরী বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’। এর আগে, ‘হু’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আক্রান্তদের অধিকাংশই সমকামী বা উভকামী পুরুষ। অর্থাত্‍, যেসব পুরুষ অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই রোগ ছড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ‘হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি’ও তাদের দেশের সাম্প্রতিক সংক্রমণগুলির ক্ষেত্রে একই ধরনের রিপোর্ট করেছে। স্পেনে এই রোগ ছড়াচ্ছে প্রধানত মাদ্রিদ অঞ্চলে। অধিকাংশ সংক্রমণই একটি ‘অ্যাডাল্ট সনা’র সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পর্তুগালেরও ১৪ টি সংক্রমণের ঘটনা সেখানকার বিভিন্ন যৌন স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলিতে সনাক্ত করা হয়েছে। তারা সকলেই সমকামী বা উভকামী পুরুষ।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, ‘মাঙ্কিপক্স’ বিশেষভাবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়, তা বলার মতো সময় আসেনি। সকলেই জানেন, ঘনিষ্ঠ শারীরিক যোগাযোগ থেকে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। তবে, যৌন সংসর্গের বিষয়টি একেবারে নতুন তথ্য। এই সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন। এর ফলে, স্থানীয় স্তরে ‘মাঙ্কিপক্স’ রোগের বিস্তার কীভাবে ঘটছে, সেই সম্পর্কেও আরও ভাল ধারণা করা যাবে।